ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রস্রাবে ফেনা হওয়া যেসব রোগের পূর্ব লক্ষণ

প্রস্রাবের গতিবেগ বেশি হলে স্বাভাবিকভাবে ফেনা দেখা যায়।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ আগস্ট, ২০২৫
প্রস্রাবে ফেনা হওয়া যেসব রোগের পূর্ব লক্ষণ ছবি : সংগৃহীত।

প্রস্রাবের গতিবেগ বেশি হলে স্বাভাবিকভাবে ফেনা দেখা যায়। কিন্তু আপনি যদি আপনার প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখতে শুরু করেন এবং এটি যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে, তবে তা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই প্রস্রাবে ফেনা দেখতে পেলে কিছু লক্ষণের দিকে মনোযোগ দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষণগুলো একটি গুরুতর রোগ সম্পর্কে বলতে পারে।


চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত—


সাধারণত প্রস্রাবে ফেনার উপস্থিতি মূত্রাশয়ের পূর্ণতার লক্ষণ। এই অবস্থায় প্রস্রাব আপনার মূত্রাশয় আক্রমণ করে। তবে এর পেছনে আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। প্রস্রাবে ফেনা দেখা মানে হাত, পা, মুখ ও পেট ফুলে যাওয়া। এটি কিডনির ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে।


রোগের প্রাথমিক লক্ষণ


প্রস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাথমিক রোগের একটি হচ্ছে ডায়াবেটিস। আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে কিডনিতেও অ্যালবুমিন উচ্চ মাত্রায় চলে যায়। যার কারণে প্রস্রাব ফেনাযুক্ত দেখায়।


এই লক্ষণগুলো টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যেও দেখা যায়। এর সঙ্গে থাকে ঝাপসা দৃষ্টি, শুষ্ক মুখ, অবিরাম তৃষ্ণা, ঘন মূত্রত্যাগ, খিদা ইত্যাদি।


 প্রস্রাবে ফেনা দেখলে কি করবেন


প্রস্রাবে ফেনা দেখতে পেলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তিনি আপনার প্রস্রাব পরীক্ষা করবেন। যার মধ্যে আপনার প্রস্রাবে উপস্থিত প্রোটিনের পরিমাণ দেখা যায়।


এ ছাড়া চিকিৎসকরা মূত্রে উপস্থিত প্রোটিনকে ক্রিয়েটিনিনের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রস্রাবে ক্রিয়েটিনিনের চেয়ে বেশি প্রোটিনের উপস্থিতি কিডনি রোগ নির্দেশ করে।


ফেনাযুক্ত প্রস্রাবের কারণ


অনেকক্ষণ প্রস্রাব আটকে রেখে হঠাৎ করে প্রস্রাবের গতির কারণে প্রস্রাবে ফেনা হয়। কিন্তু এই ফেনা কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার হয়ে যায়। কখনো কখনো ফেনা গঠন প্রস্রাবে প্রোটিনের একটি অতিরিক্ত পরিমাণ নির্দেশ করে। প্রস্রাবে উপস্থিত এই প্রোটিন বাতাসের সংস্পর্শে এলে ফেনা তৈরি করে।


প্রস্রাবে ফেনা তৈরির আরো অনেক কারণ থাকতে পারে যেমন-


ডিহাইড্রেশন : যখন একজন মানুষের শরীরে পানির মাত্রা কমে যায়, তখন তার প্রস্রাবের রং খুব গাঢ় ও ঘন দেখায়। এটি খুব কম পরিমাণে পানি খাওয়ার কারণে হয়। পানি খাওয়া কমিয়ে দিলে প্রোটিন প্রস্রাবে মিশ্রিত হয় না। প্রোটিনে এমন অনেক গুণ রয়েছে, যার কারণে প্রস্রাব করার সময় ফেনা হয়ে যায়। হাইড্রেটেড থাকার পরও যদি কোনো ব্যক্তির প্রস্রাব ফেনা দেখায়, তবে এটি কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে।


কিডনি রোগ : কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্তে উপস্থিত প্রোটিন ফিল্টার করা। প্রোটিন আমাদের শরীরের তরল ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির ক্ষতি বা কিডনির কোনো রোগের কারণে এই প্রোটিন কিডনি থেকে বের হয়ে প্রস্রাবে মিশে যায়।


অ্যালবুমিন হলো এক ধরনের প্রোটিন, যা আমাদের রক্তে থাকে। যখন কিডনি সঠিকভাবে কাজ করে, তখন এটি এই প্রোটিনের বড় পরিমাণ প্রস্রাবে যেতে দেয় না। কিন্তু খারাপ কিডনিতে এটি ঘটতে পারে।


সূত্র : আজতক বাংলা


thebgbd.com/NA