জলাবদ্ধতা, খানাখন্দ আর গর্তে ভরা রাস্তাঘাটে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মাগুরার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। বছরের পর বছর নেই উল্লেখযোগ্য সংস্কারের ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাজুড়ে জমে থাকে পানি, আর গর্তে ভরা টার্মিনালজুড়ে তৈরি হয় দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়, কিন্তু হয়নি কোনো বড় ধরনের সংস্কার। ফলে অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না।
টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, পিচ উঠে গেছে বহু আগেই, আর ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার মাঝখানে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত গাড়ি।
রয়েল পরিবহনের চালক উত্তম কুমার বলেন, ‘মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ আর গর্তের কারণে আমাদের পরিবহন নিয়ে ঢুকতে ইচ্ছে করে না। তবু যাত্রীদের বহনের জন্যই মুলত প্রবেশ করতে হয়।’
বাদশা নামের এক যাত্রী বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ এতোটাই খারাপ যে এখানে আসতে মন চায় না। তারপরও ঢাকায় যেতে হলে আসতেই হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আমি দ্রুত এ টার্মিনালের সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব উদ্দিন জানান, ‘দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়, কিন্তু হয়নি কোনো বড় ধরনের সংস্কার। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাবে কর্তৃপক্ষ।’
মাগুরা পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান বারী বলেন, ‘টার্মিনালের সম্প্রসারণসহ নতুন করে তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই শুরু হবে কাজ। আর বর্তমান ভোগান্তি কমাতে খুব শিগগিরই করা হবে সংস্কার।’
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকায় তিন একর জমির উপর মাঝারি শহর উন্নয়ন অবকাঠামো-২ প্রকল্পের আওতায় এলজিইডির অর্থায়নে টার্মিনালটি নির্মিত হয়। এরপর থেকে টার্মিনালে আর উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করা হয়নি।
thebgbd.com/NIT