যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েল সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ইউরো ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার দর হারিয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে এএফপি এই খবর জানায়।
সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহভরে পাওয়েলের ভাষণের অপেক্ষায় ছিলেন, আশা করেছিলেন, তিনি সেপ্টেম্বরে ফেডের বৈঠকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেবেন। পাওয়েলের বক্তৃতার অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা আশায় ছিলেন, ফেড আগামী সেপ্টেম্বরে বৈঠকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সুদের হার কমাতে পারে। তার মন্তব্যের পর সপ্তাহজুড়ে প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিক্রির চাপ কাটিয়ে নিউইয়র্কের তিনটি প্রধান সূচকই পুনরুদ্ধার হয়েছে।
ইউরোপীয় বাজারও খানিকটা চাঙ্গা হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত জার্মান অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংকোচনের কারণে সীমিত থাকে। ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে পাওয়েল বলেন, মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও চাকরির বাজার দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি এখন ‘চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে। চাকরির বাজারে নিম্নমুখী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ভোক্তাদের কাছে ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
পাওয়েল বলেন, নীতিগত অবস্থান সীমিত পরিসরে রয়েছে। তবে অর্থনীতির মৌলিক দিক ও ঝুঁকির ভারসাম্য আমাদের নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।
ট্রাম্পের প্রকাশ্য চাপের মুখে পড়লেও ফেড এখন পর্যন্ত ডিসেম্বরের পর থেকে সুদের হার ৪.২৫ থেকে ৪.৫০ শতাংশে স্থিতিশীল রেখেছে। ফেডের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী শুক্রবার রাতে সেপ্টেম্বরে হার কমানোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যেখানে আগে বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা হিসাব করেছে। ই-টোরোর বিশ্লেষক ব্রেট কেনওয়েল বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বাড়া এখনও একটি ঝুঁকি। সেজন্য ফেড দ্রুত পদক্ষেপ নাও নিতে পারে। তবে যদি চাকরির বাজারে আরও দুর্বলতা দেখা যায়, তাহলে তারা নিশ্চুপ থাকবে না।
কম সুদে মার্কিন মুদ্রা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠায় ডলার ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের বিপরীতে দর হারিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মনোযোগে থাকায় তেলের দামও সামান্য বেড়েছে। ট্রাম্পের শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পার্সেল ডেলিভারি সীমিত করার ঘোষণা দেওয়ায় জার্মানির ডয়চে পোস্টের শেয়ার ১.১ শতাংশ কমে যায়। ফ্রান্সের লা পোস্টও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড