‘নুরাল পাগলা’র দরবারে হামলার ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট দশ জন কে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তাররা হলো, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ময়ছের মাতুব্বার পাড়া গ্রামের মো. শওকত সরদারের ছেলে জীবন সরদার (২০), গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আ. মালেক ফকিরের ছেলে সাগর ফকির (২১), ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল উদ্দিনের শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম শুভ (১৯) ও ফরিদপুর কোতায়ালী থানার ইশন গোপালপুর ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের মো. নিজামউদ্দিনের ছেলে মো. ফেরদৌস সরদার (৩৬)।
গ্রেপ্তারদের ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনার ফুটেজ পর্যালোচনা করে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালন্দ থানার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এ মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নুরাল পাগলের মাজার ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা হয় নাই বলেও জানান ওসি রাকিবুল।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মো. সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ এনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা তিনটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ‘নুরাল পাগলা’র দরবার বাড়িতে হামলা চালায় কথিত ‘তৌহিদী জনতা’। হামলাকারীরা ১৩ দিন আগে কবর দেওয়া নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে উল্লাস করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় পুড়িয়ে দেয়। এরপর মরদেহের অবশিষ্ট ছাই ও দেহাবশেষ পদ্মা নদীর পানিতে ফেলে দেয়।
thebgbd.com/NIT