ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফরিদা পারভীনের অবস্থা সংকটাপন্ন

দেশবরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ফরিদা পারভীনের অবস্থা সংকটাপন্ন ছবি : সংগৃহীত।

শবরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। বর্তমানে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন তিনি।


আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদা পারভীনের মেয়ে জিহান ফারিহা জানান, তার মোয়ের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ।


তাকে জেনারেশন ফোর মেডিসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে বলেন, ‘তার কিডনি, ব্রেইন কাজ করছে না।


লাং-এ সমস্যা। হার্টে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন আছে। রক্তের ইনফেকশন শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তার মাল্টি অর্গান ফেইলিউর।


রক্তচাপ কম থাকার কারণে ডায়ালিসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবু আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।’


এদিকে ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম জাফর নুমানী বৃহস্পতিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মায়ের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানান। 


তিনি লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই পরিস্থিতিতে আম্মার শারীরিক অবস্থার উন্নতির আর তেমন কোনো আশা নেই।


তার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আমরা আরো কিছু সময় ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে এই লাইফ সাপোর্টটা চালিয়ে নিচ্ছি। সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।’


নুমানী আরো লেখেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও নিশ্চিত করছি, আম্মার চিকিৎসার জন্য আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। সবাই আম্মার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহপাক তার অসীম দয়ায় আম্মার এই শেষ সময়কে সহজ ও শান্তিময় করুন।’ 


উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত গেয়ে সংগীতাঙ্গনে পথচলা শুরু করেন ফরিদা পারভীন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পান তিনি। পরে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনসংগীতে তালিম নেন এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লালনগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি।


তার কণ্ঠে ‘মিলন হবে কত দিনে, ‘অচিন পাখি’ গানগুলো আজও বাঙালির চেতনার অংশ হয়ে আছে। সংগীতে অবদানের জন্য ১৯৭৮ সালে একুশে পদক পেয়েছেন ফরিদা। জাপান সরকার তাকে কুফুওয়া এশিয়ান কালচারাল পদক দিয়েছে। 


ফরিদা পারভীন কেবল নিজের গান করেননি; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালনের গান শিখিয়েছেন। তার উদ্যোগে তোলা হয় অচিন পাখি স্কুল, যেখানে শিশুদের শেখানো হয় আধ্যাত্মিক শক্তির মর্ম ও গান।


thebgbd.com/NA