ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহারে নতুন নিয়ম

আসছে ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যেই সরগরম।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহারে নতুন নিয়ম ছবি : সংগৃহীত।

আসছে ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যেই সরগরম। ভোটের প্রচারণা ও ভিআইপি যাতায়াতে হেলিকপ্টারের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। প্রার্থীদের পক্ষে স্বল্প সময়ে একাধিক এলাকায় পৌঁছানো বা দুর্গম অঞ্চলে যাতায়াত সহজ করতে হেলিকপ্টার হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ বাহন। এ কারণে দীর্ঘদিন নীতিগত জটিলতায় থাকা হেলিকপ্টার খাতও আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচনে সীমিত অনুমতি


নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক বা সমমানের পদধারীরাও প্রচারণায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আকাশপথে ব্যানার টানানো বা লিফলেট ছড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এর আগে কেবল দলীয় প্রধান বা শীর্ষ নেতাদের এই সুযোগ দেওয়া হতো।


হেলিকপ্টার সেবার বিস্তার


১৯৯৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম চালু হয় হেলিকপ্টার ভাড়া ব্যবসা। বর্তমানে প্রায় ১৩টি কোম্পানি এই সেবা দিচ্ছে, বহরে আছে প্রায় ৩৫টি হেলিকপ্টার। স্কয়ার এয়ার, মেঘনা এভিয়েশন, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ, আর অ্যান্ড আর এভিয়েশন, ইমপ্রেস এভিয়েশন, পিএইচপি, আকিজ ও বেক্সিমকো এভিয়েশনসহ নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে সক্রিয়। ব্যবহারও বহুমুখী—রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়াও করপোরেট ভ্রমণ, ঈদযাত্রা, ওয়াজ মাহফিল, চলচ্চিত্র শুটিং, বিয়ে কিংবা জরুরি মেডিকেল পরিবহনে এই সেবা এখন সাধারণ হয়ে উঠেছে।


চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া


বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী বা দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ঢাকায় আনার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে হেলিকপ্টারের কারণে রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে হেলিপ্যাড তৈরি হলে সেবা আরো কার্যকর হবে।


মৌসুমি চাপ ও ভাড়া


ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টিকে ধরা হয় হেলিকপ্টার খাতের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম হিসেবে। তখন নির্বাচন, করপোরেট ট্যুরিজম ও বিদেশি প্রতিনিধিদের সফরের কারণে বুকিং কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এক ইঞ্জিনের ছোট হেলিকপ্টারের ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার টাকা, বড় এক ইঞ্জিনের ভাড়া এক লাখ টাকার ওপরে। দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট হেলিকপ্টারে ভাড়া পৌঁছায় দুই লাখ টাকার বেশি। তবে নির্বাচনী মৌসুমে ভাড়া সাধারণত ১০–২৫% পর্যন্ত বেড়ে যায়।


অনুমতির প্রক্রিয়া


হেলিকপ্টার চালানোর জন্য ফ্লাইট প্ল্যান জমা দেওয়া, সিভিল এভিয়েশন ও স্থানীয় প্রশাসনের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। ঢাকার বাইরে মাঠ, স্টেডিয়াম বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে নামতে হলে আলাদা অনুমতি লাগে। যদিও ছাদে অবতরণের অনুমতি আংশিকভাবে দেওয়া হয়েছে, তবে তা কেবল নিরাপদ স্থানে সীমাবদ্ধ।


চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা


শীতকালে কুয়াশার কারণে ভিজিবিলিটি সমস্যা তৈরি হয়, যা ফ্লাইট পরিচালনায় বড় বাধা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, সরকার হেলিকপ্টারকে বিলাসী বাহন মনে করে অতিরিক্ত কর আরোপ করেছে—একটি ভাড়ার প্রায় অর্ধেক চলে যায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কে। অবকাঠামোগত দিক থেকেও পিছিয়ে আছে খাতটি; বর্তমানে সব ফ্লাইটই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।


ভবিষ্যতের সম্ভাবনা


অপারেটররা মনে করছেন, দেশে আয় ও করপোরেট ভ্রমণ বাড়ায় হেলিকপ্টার সেবা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে ব্যবসাবান্ধব নীতি, কর-শুল্কে ছাড় এবং পর্যাপ্ত হেলিপ্যাড না হলে খাতটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।


thebgbd.com/NA