তেহরানকে বাদ দিয়ে দেশের দক্ষিণে কোন এক শহরকে রাজধানী করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ঐতিহ্যবাহী শহরটির অত্যধিক সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহে ঘাটতি এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানী তেহরান থেকে দক্ষিণে সরানো ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত দেশটির হরমোজগান প্রদেশে সফরে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, গত বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে তিনি রাজধানী সরানোর এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। যদিও তার এই প্রস্তাব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে ইরানি প্রেসিডেন্ট যুক্তি দিয়েছেন, সংকট এত গভীর যে ইরানের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। আর কোনো বিকল্প নেই।
হরমোজগান প্রদেশের রাজধানী স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই অঞ্চল পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত, এখান থেকে সহজেই উন্মুক্ত সমুদ্রে যাওয়া যায়। এতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। যদি আমরা এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই ও নতুনভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে এটি একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত এলাকায় পরিনত হতে পারে। বর্তমান অবস্থা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ নয়, ভবিষ্যতের জন্য বৈজ্ঞানিক, নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এখন যেসব সমস্যার মধ্যে আছে, সেগুলো মোকাবিলার জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র পারস্য উপসাগর এলাকার দিকে সরাতে হবে। তেহরান, কারাজ ও কাজভিনে এখন ভয়াবহ পানি সংকট চলছে, আর এই সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব না।’
প্রসঙ্গত, তেহরান শহরে কর্তমানে এক কোটির বেশি মানুষ বাস করে, যারা ইরানের মোট পানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করে। পেজেশকিয়ানের আগেও কয়েকজন প্রেসিডেন্ট রাজধানী সরানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এরমধ্যে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও ছিলেন, যিনি একটি বিকল্প পরিকল্পনাও তৈনি করেছিলেন।
এদিকে পেজেশকিয়ান র্দীঘদিন ধরেই দেশের পানি সংকট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, গত বছর বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৪০ মিলিমিটার, যেখানে স্বাভাবিক পরিমাণ ২৬০ মিলিমিটার। অর্থাৎ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের পরিস্থিতিও একই রকম থাকার আভাস পাওয়া গেছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ২০২৫ সালে বৃষ্টিপাত ১০০ মিলিমিটারের নিচে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাঁধে পানি কমে যাচ্ছে, অনেক কূপ শুকিয়ে গেছে, আর অন্য জায়গা থেকে পানি আনার খরচও অনেক বেশি। এসব দেখে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের এখন দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। যদি এখান থেকে তেহরানে পানি নিতে হয়, তাহলে প্রতি ঘনমিটারের খরচ হবে ৪ ইউরো।
উল্লেখ্য, তেহরানের পানির ৭০ শতাংশ আসে বাঁধ থেকে, আর ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি থেকে। কিন্তু যথেষ্ট বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং তীব্র তাপদাহে বাঁধে পানি কমেছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে।
এ বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের কিছু জায়গায় প্রতি বছর জমি ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিচে ধসে গেছে। এটি একটি বিপর্যয় পরিস্থিতি, যা সংকেত দিচ্ছে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসজেড