নিষেধাজ্ঞা শেষে ফের নদীতে জেলেরা মাছ শিকারে নেমেছে। জেলেদের আশা ছিল জালে ধরা পড়বে বড় ইলিশ। কিন্তু নদীতে দেখা নেই বড় ইলিশের, যা ধরা পড়ছে, তার মধ্যে জাটকার পরিমাণই বেশি। জেলেরা বলছেন, বড় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর গভীর সাগরে চলে যাওয়ায় নদীতে মাছের পরিমাণ কমেছে। ফলে জালে বড় মাছ ধরা পড়ছে না। তবে মাঘ এবং ফাল্গুন মাসের দিকে কিছু মাছ ধরা পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকার জেলে শাহজাহান বলেন, ১২ জেলে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মাছ শিকারে যাই। যে মাছ পেয়েছি, রোববার বিকেলে মজুচৌধুরীর হাটে এনে ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি। কিন্তু আমাদের জ্বালানিসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। খরচ এবং বিক্রি মিলিয়ে তেমন লাভ হয়নি।
জেলে কামাল হোসেন বলেন, নদীতে মাছ নেই। অভিযানের পর ভাবছি মাছ ধরা পড়বে। কিন্তু আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না। কিছু মাছ ধরা পড়লেও সেগুলো একেবারে ছোট। প্রবীণ জেলে আবদুল কুদ্দুস বলেন, বিভিন্ন কারণে নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও অনেকে নদীতে মাছ শিকার করেছে। এতে মা ইলিশ রক্ষা হয়নি। আবার অনেক জেলে জাটকা ইলিশ শিকার করেছে। এতে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণেও মেঘনায় মাছের উপস্থিতি কম।
তিনি বলেন, মা ইলিশ ডিম ছাড়ার পর উত্তর দিকে পদ্মায় গিয়ে পড়ে। আবার কিছু মাছ দক্ষিণে গভীর সাগরে চলে যায়। তাই এ মুহূর্তে মাছ কম। তিনি জানান, আগামী মাঘ ও ফাল্গুন মাসের দিকে নদীতে মাছের দেখা মিলতে পারে। তখন হয়তো জালে মাছ ধরা পড়বে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে রোববার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই উপকূলীয় মাছ ঘাটগুলোতে জেলে, আড়তদার, ক্রেতা এবং বিক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মজুচৌধুরীর হাট মাছ ঘাটের আড়তদাররা বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনে ঘাটে যে পরিমাণ ইলিশের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি, তার চেয়েও কম দেখা মিলেছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ইলিশ।
আরেক আড়তদার মো. সফিক বলেন, ইলিশের পাশাপাশি অন্য মাছও কিছুটা ধরা পড়েছে। তবে সেটাও কম। মাছ কম ধরা পড়ায় বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশের হালি ৭ থেকে ৮ হাজার, আধা কেজি ওজনের ইলিশের হালি আড়াই হাজার এবং দেড় থেকে দুশ গ্রাম ওজনের জাটকার হালি ৩৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
thebgbd.com/NIT