মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের দুই দিনব্যাপী নীতি সভা শুরুর আগে বিনিয়োগকারীরা নতুন দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে। ফেডের সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত আগেই অনেকটাই বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪,১৭৪.৯১ ডলার। ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারও ০.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,২০২.৭০ ডলারে নেমেছে।
ওআন্ডার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওং বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডের নীতি সভাকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছেন। তার ভাষায়, “মাসের শুরুর দিকে জেরোম পাওয়েল যে ‘হকিশ’ ধরনের রেট–কাট সংকেত দিয়েছিলেন, তা বিনিয়োগকারীদের ট্রেজারি মার্কেটে অবস্থান সমন্বয়ে প্রভাব ফেলেছে।”
সোমবার স্পর্শ করা আড়াই মাসের সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সপ্তাহে ফেড সুদ কমালেও তা হবে ‘হকিশ কাট’—যার অর্থ, আগামী বছরে আরও কাটের ক্ষেত্রে উচ্চ সতর্কতা বজায় থাকবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচারস (PCE) প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। একই সময়ে ভোক্তা আস্থাও বেড়েছে।
নভেম্বরে বেসরকারি খাতে চাকরি কমেছে দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে, তবে নভেম্বর ২৮ তারিখে শেষ হওয়া সপ্তাহের বেকারভাতা দাবি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বর ৯–১০ তারিখের ফেড সভায় এক-চতুর্থাংশ শতাংশ সুদ কমানোর সম্ভাবনা এখন ৮৯ শতাংশ।
সুদের হার কমলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো নন-ইল্ডিং সম্পদে বেশি আগ্রহী হন। তবে মঙ্গলবার রুপার দামও ০.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৫৭.৭৬ ডলারে। গত শুক্রবার রুপা আউন্সপ্রতি ৫৯.৩২ ডলার ছুঁয়ে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল।
ওং-এর মতে, “রূপা এখন মূল্যবান ধাতুর মধ্যে উচ্চ–বেটা সম্পদে পরিণত হয়েছে।” কম মজুত, শক্তিশালী শিল্পচাহিদা এবং ফেডের সম্ভাব্য রেট কাট—এসবই রুপার গতিশীলতাকে বাড়িয়ে তুলছে, যা স্বর্ণকে ছাড়িয়ে গেছে।
এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১,৬৩৮.৩৫ ডলার হয়েছে। প্যালাডিয়ামও ০.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪৫৯.৭৮ ডলারে।
ফেডের দিকনির্দেশনা প্রকাশের পর আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন ওঠানামার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স