ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) বন্দি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ফেডারেল প্রি-ট্রায়াল বা বিচার-পূর্ব আটক কেন্দ্র। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
সোমবার মাদক পাচার ও অন্যান্য অভিযোগে এই দম্পতি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদুরো ও ফ্লোরেসকে এই বিশাল কারাগারে বন্দি রাখার নির্দেশ দেন।
১৬০০ বন্দি ধারণক্ষমতার এমডিসি ব্রুকলিন নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র কারাগার, যেখানে ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি আসামিদের রাখা হয়। এই কারাগারে আলোচিত অনেক বন্দিকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাপ সম্রাট শন ‘ডিডি’ কম্বস এবং সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়া মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজও এখানে ছিলেন।
বহুল ব্যবহৃত এই কারাগারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগ রয়েছে। জরাজীর্ণ ভবন এবং বন্দিদের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থতার কারণে কারাগারটি নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ে। কারাগারটি বেশ কিছু বড় ঘটনার জন্য কুখ্যাত। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালের প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং ২০২৪ সালে দুই বন্দিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা। সম্প্রতি ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সন্দেহে আটক অভিবাসীদেরও এই কারাগারে রাখা শুরু হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের বিশেষ পরামর্শদাতা ড্যানিয়েল ল্যামব্রাইট এই কারাগারের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে পচা খাবার, অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা এবং চিকিৎসা সেবার অভাবের কথা তুলে ধরেন। ল্যামব্রাইট বলেন, ‘একটি রহস্যময় ও অমানবিক দুর্যোগের নাম এমডিসি ব্রুকলিন। অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এর কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়। কারো সঙ্গেই এমন আচরণ কাম্য নয়।’
সূত্র: এএফপি
এসজেড