ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছেন, নতুন সাধারণ ক্ষমা আইন পাশ হওয়ার পর নির্বাসনে থাকা ভেনেজুয়েলাবাসীরা দেশে ফিরে আসতে পারবেন। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ফলে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের ধীরে ধীরে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তিনি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, ‘আমি আপনাদের জানাচ্ছি ভেনিজুয়েলার দরজা আপনাদের জন্য এবং তাদের জন্য খোলা যারা এই ক্ষত থেকে নিরাময়ের এই প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে চান।’ ভেনিজুয়েলার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ দেশটি ছেড়ে পালিয়েছে। যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্থানচ্যুতি সংকট। চরম দারিদ্র্য, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের অভাব রয়েছে দেশেটিতে। রাজনৈতিক দমনের কারণে অনেক বিরোধী নেতা নির্বাসনে আছেন।
সোমবার ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পূর্বে অবস্থিত রোডিও আই কারাগার থেকে অন্তত ৩০ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে, তাদের অপেক্ষমাণ আত্মীয়দের মধ্যে আনন্দের দৃশ্য দেখা গেছে। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গ্রিসিয়া আরানা দৌড়ে এসে তার স্বামী রেইনার্ডো মরিলোর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তিনি মুক্তি পাওয়ার আনন্দে এএফপিকে বলেন, ‘আমি এমনটাই স্বপ্ন দেখেছিলাম।’
কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই কারাগারের গেট পেরিয়ে বের হওয়ার সময় ‘আমরা মুক্ত’ বলে আনন্দে চিৎকার করেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের একজন লুইস ভিয়েরা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত, কোনও বিধিনিষেধ ছাড়াই।’ তাকে ১৩ মাস ধরে আটকে রাখা হয়।
সূত্র: এএফপি
এসজেড