ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ রোববার অভিযোগ করেছেন, মুখে কূটনীতির কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৩,৫০০ সেনা বহনকারী একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোর পর তিনি এ অভিযোগ করলেন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর এবং সোমবার আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার আগে ঘালিবাফ এ মন্তব্য করেন।
এই যুদ্ধ এখন আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালানোয় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও হুমকি তৈরি হয়েছে। তেহরান থেকে এএফপি জানায়, সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘালিবাফ বলেন, ‘শত্রু একদিকে প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। আমাদের যোদ্ধারা মাটিতে মার্কিন সেনাদের আগমনের অপেক্ষায় আছে, তাদের ধ্বংস করে দিতে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের চূড়ান্তভাবে শাস্তি দিতে।’
প্রায় ৩,৫০০ মেরিন ও নাবিক বহনকারী উভচর আক্রমণ জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। এতে খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো মোতায়েন অনুমোদন দেননি।
ট্রাম্প বারবার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা বললেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শিগগিরই বৈঠক হতে পারে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ‘সমস্যার সমাধান করতে পারে’। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান সোমবার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে এ সংকট নিয়ে আলোচনা আয়োজন করবে।
‘পুরো তেহরান কেঁপে উঠে’
রোববার ভোরে তেহরানে দুটি বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে বলে এএফপির এক সাংবাদিক জানান। তবে লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবি জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র শহরে তাদের কার্যালয় থাকা ভবনে আঘাত হানে। ভবনের ভেতরের ভিডিওতে ভাঙা জানালা ও ছড়িয়ে থাকা কাচ দেখা যায়। বাইরে সড়কে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে এবং আশপাশের ভবনে ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।
তেহরানের এক শিল্পী এএফপিকে বলেন, ‘শান্ত একটি রাতের ঘুমকে আমি মিস করি। রাতের হামলাগুলো এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হয়েছে পুরো তেহরান কেঁপে উঠছে।’ ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের ৬২ বছর বয়সী ফারজানেহ প্যারিস থেকে এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় থাকে। আজকের বিশ্বে, এমনকি ভবিষ্যতেও, যুদ্ধ কোনো সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। কেউই আসলে যুদ্ধ চায় না।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় হরমুজ প্রণালীর কাছে বন্দর শহর বান্দার খামিরের একটি জেটিতেও আঘাত হানা হয়েছে। ঘালিবাফ রোববার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটি এখন ‘একটি বড় বৈশ্বিক যুদ্ধের’ মধ্যে রয়েছে, যা ‘সবচেয়ে সংকটময় পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত—আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দিতে পারব, ইরানে হামলার জন্য তাদের অনুতপ্ত করব এবং আমাদের ন্যায্য অধিকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করব।’
সূত্র: এএফপি
এসজেড