চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার মামলার অন্য আসামিদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। একই সঙ্গে ডনকে কোনোভাবেই জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে যুক্তরাজ্য থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে? কেন এসব কথা সামনে আসছে না? কেন অন্যরা এখনো ঘরে বসে আছে, কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না?’
রোববার (৯ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে আটক করা হয়। তিনি সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি। ডনের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মামলার অন্য আসামিরা এখনো বাইরে থাকায় হতাশা জানিয়েছেন সালমান শাহর মা।
নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, ডন বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং সালমান শাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা ধরনের কথা বলেছেন। আসামি হওয়ার পরও ডন বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, এতদিনেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সালমান শাহর মা বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল, ছেলের হত্যার বিচার পাব। আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে। সেটা হয়নি। এখনো মূল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার একটাই চাওয়া, কোনোভাবেই যেন ডন জামিন না পায়। সে ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে এজন্য শাস্তি পেতেই হবে।’
কথা বলার একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নীলা চৌধুরী। ডনের সঙ্গে সালমান শাহর বন্ধুত্বের দাবিও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, একসময় ডন সালমান শাহর আশ্রয়ে তাদের বাসায় থাকতেন। পরে তার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
নীলা চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, সালমান শাহ জীবিত থাকা অবস্থায় ডন তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিতেন। তার ভাষায়, স্বার্থ ছাড়া এমন মানুষ কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও জল্পনা রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।
মামলা হওয়ার পর ডনের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডন তাকে হুমকি দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে যেতে বলেছিলেন। একসময় যে ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সাহস পেতেন না, তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে তাকে হুমকি দেওয়ার সাহস পেলেন—এ প্রশ্নও তোলেন নীলা।
তার অভিযোগ, ডনের পেছনে কারও না কারও প্রশ্রয় রয়েছে। নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে, কেন ডিপজলকে বলে দিতে হয়? ডিপজল কেন বলবে সে বিমানবন্দরে? আগে থেকেই তো এরা চোখের সামনেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারণে সাহস বেড়েছিল।’