ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কর্তন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মানিকগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কর্তন ফাইল ছবি


মানিকগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা কমিটির এক নেতার ওপর হামলা চালিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মানিকগঞ্জ সদর ও সিংগাইর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ইটভাটার কাছে এই ঘটনা ঘটে।



গুরুতর আহত ওই নেতার নাম বশির। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির উপকর্মসংস্থান-বিষয়ক সম্পাদক এবং সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের পালোরার চর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম আসজাদ জানান, হামলার স্থানটি সদর থানার শেষ সীমানা পেরিয়ে সিংগাইর থানা এলাকার আনুমানিক ২০০ গজের ভেতরে পড়েছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে তার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এদিকে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা শাখা। সোমবার দুপুরে জেলা কমিটির সভাপতি এম এ সিফাদ কোরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে হামলার জন্য বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করা হয়।


পাল্টা বক্তব্যে ছাত্রলীগের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বশিরকে তার বন্ধুরাই কুপিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাতের আঁধারে ওই ইটভাটায় বশির কার সাথে এবং কেন গিয়েছিলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঢাকতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি ও ছাত্রদলের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।


হামলার পেছনে পরিচিতদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে হামলাকারীরা বশিরের পূর্বপরিচিত ও বন্ধুস্থানীয়। তাদের বাড়িও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায়। কী কারণে বশিরকে ওই নির্জন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিল এবং হামলার নেপথ্য উদ্দেশ্য কী—তা খতিয়ে দেখে মূল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।




thebgbd.com/BYB