মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক রবিউল আলম আসামি পরীমণির আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এদিন পরীমণির পক্ষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) হাজিরা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতে আবেদন করেন। তিনি বলেন, পরীমণি কিছু দিন আগে পায়ে আঘাত পেয়ে অসুস্থ ছিলেন। হঠাৎ পায়ে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় চলাফেরা করতে অসুবিধা হচ্ছে। এ কারণে আদালতে আসতে পারেননি। এজন্য শুনানি পেছাতে সময়ের আবেদন করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসেন বিরোধিতা করে পরীমণির জামিন বাতিল চেয়ে অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রার্থণা করেন। একই সঙ্গে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে পরীমণির হাজিরাও বাতিলের আবেদন করেন। তিনি বলেন, এই আসামি কয়েক বছর ধরে আদালতে না এসে সময় প্রার্থনা করছেন। যা অগ্রহণযোগ্য। পরে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য নতুন দিন রাখেন।
২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমণির বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট র্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ৪ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়ে, পরীমণির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমণির নামে মদ জাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। ওই লাইসেন্সের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে। পরীমণি এ মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমণি তার গাড়িটি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন।
এরপর ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সেই আদেশ বাতিল চেয়ে পরীমণি হাইকোর্টে আবেদন করেন। ২০২২ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল দিয়ে মামলার কার্যক্রম পরীমনির ক্ষেত্রে তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে এ মামলায় পুনরায় অভিযোগ গঠন বিষয় শুনানির জন্য নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।
thebgbd.com/BYB