ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজীকে তুলে নিয়ে চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজীকে তুলে নিয়ে চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার ফাইল ছবি


মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি চাঁদাবাজির দুই লাখ টাকাও জব্দ করেছে।



ভুক্তভোগী কাজির নাম মো. হাবিবুর রহমান (৫২)। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন। গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে যুবদল নেতা রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে কাটাখালী এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন।


এ ঘটনায় রাজিব হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুই জনকে আজ মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। কাজীকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ২ জনসহ ৩ জনের নামে ও আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।  



মামলার অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সোমবার বেলা দুইটার দিকে তিনি কাটাখালী এলাকার বাসায় ছিলেন। তখন রাজিব হোসেন, তার বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় আসেন। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাটাখালীতে তার কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি টাকা দিতে রাজি হন। এরপর তাকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তার হিসাব নম্বর থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে আসামিদের টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।




হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ভয়ে তার বাবা প্রথমে তাকেও বিষয়টি জানাতে চাননি। রাত ১০টার দিকে তিনি ঘটনা জানার পর মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছুক্ষণ পর রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ওসির সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার হয়।


টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ হাসান। মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও যেসব ঘটনা ঘটল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ঘটে, সেটা অনুমান করা যায়। আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি, আর কেউ না হোক। রাজিবসহ যারা ঘটনায় জড়িত এবং যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’


এ ঘটনার পর রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।




thebgbd.com/BYB