হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যার প্রতিশোত হিসেবে সোমবার (৫ আগস্ট) ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান। মার্কিন নিউজ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের রিপোর্টের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়ে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। অ্যাক্সিওস বলেছে, জি৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেছেন, সোমবার (৫ আগস্ট) সকালের দিকেই ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান ও হিজবুল্লাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বিশ্বের সাত শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কনফারেন্স করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিঙ্কেন। সেখানে এই সাত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান ও হিজবুল্লাহর আক্রমণ সোমবার শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন তিনটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাজ্য নিয়ে গঠিত জি-৭। এই সব দেশগুলোই মার্কিন মিত্র। মূলত ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে যতটা সম্ভব ইসরায়েলের ওপর ইরান ও হিজবুল্লাহর প্রতিশোধের মাত্রা কমিয়ে আনতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করার জন্য তিনি এই বৈঠক করেছেন। তাদের হামলার মাত্রা সীমিত করাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানোর সর্বোত্তম সুযোগ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে টাইমস অব ইসরায়েল বলেছে, হামলা প্রতিরোধ করতে আগেভাগেই ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার। সংবাদমাধ্যটি বলছে, দেশটির শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, শিন বেত, এর প্রধানদ্বয় ডেভিড বারনিয়া এবং রোনেন বার’কে মিটিংয়ে ডাকেন নেতানিয়াহু। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ হারভি হ্যালেভি।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একটি জনবহুল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার ফুয়াদ শোকর নিহত হন। হিজবুল্লাহ কমান্ডার শোকর নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলায় নিহত হন হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া। এরপরই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও হামাস একসঙ্গে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে পারে।