ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এনসিপি পাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত শাপলা প্রতীক

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার পর এবার কাঙ্ক্ষিত ‘শাপলা’ প্রতীকই পেতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ অক্টোবর, ২০২৫
এনসিপি পাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত শাপলা প্রতীক ছবি : সংগৃহীত।

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার পর এবার কাঙ্ক্ষিত ‘শাপলা’ প্রতীকই পেতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইসির সম্প্রতি প্রকাশিত গেজেটে ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকলেও দলটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে প্রতীকটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এদিকে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে। বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিলে আমাদের তাতে আপত্তি নেই। প্রতীক ইস্যু নিয়ে ইসির সঙ্গে বিরোধে জড়ানো বিএনপির কাজ নয়।”


দলীয় প্রতীক দাবিতে অনড় এনসিপি

ইসির নিবন্ধন সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর এনসিপি পুনরায় শাপলা প্রতীক বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা অন্য কোনো প্রতীক চান না।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, “শাপলা প্রতীক আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এটি শুধু একটি চিহ্ন নয়, বরং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্কের প্রতীক। কমিশনের তালিকায় শাপলা না থাকা একটি সীমাবদ্ধতা, যা আইনি ও নীতিগতভাবে দূর করা সম্ভব।”


তিনি আরও বলেন, “শাপলা আমাদের জাতীয় ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। কমিশনের কাছে আমরা অনুরোধ করেছি—শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা—এই প্রতীকগুলোর যেকোনো একটি অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের বরাদ্দ দেওয়া হোক।”


মান্নার অবস্থান ও নাগরিক ঐক্যের প্রতিক্রিয়া

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়েছেন, এনসিপির শাপলা প্রতীক দাবির পর দলটির কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা অনুরোধ করেন যেন মান্না বিষয়টি নিয়ে আপত্তি না জানান। মান্না বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—ইসি যদি এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দেয়, তবে আমি কোনো মামলা করব না।”


উল্লেখ্য, নাগরিক ঐক্যের প্রতীক ‘কেতলি’। তবে দলটি নিবন্ধনের সময় ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়েছিল, কিন্তু তা পায়নি। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “নাগরিক ঐক্যও শাপলা প্রতীক চেয়েছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি।”


ইসির অবস্থান

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইসি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগকে নিবন্ধনভুক্ত দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “দুটি দলই নিবন্ধনের জন্য শর্ত পূরণ করেছে। এখন আপত্তি থাকলে তা জানাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।”


এরপর ২ অক্টোবর ইসি ১১৫টি প্রতীকের গেজেট জারি করে। সেখানে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত থাকায় জামায়াতে ইসলামীকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পুনর্বহাল করা হয়। তবে এনসিপির দাবি করা শাপলা প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।


এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “বর্তমান তালিকায় শাপলা প্রতীক নেই, তাই তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দলটি আবেদন করেছে এবং আমরা নীতিগতভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারি। বিধিমালা সংশোধনের পর শাপলা প্রতীক তালিকায় যুক্ত হলে এনসিপিকে তা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে।”


সারসংক্ষেপে, নিবন্ধনের পর থেকেই এনসিপি নিয়মিতভাবে শাপলা প্রতীকের দাবিতে ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনাপত্তি ও কমিশনের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এনসিপি তাদের কাঙ্ক্ষিত শাপলা প্রতীক পেতে যাচ্ছে।


thebgbd.com/NA