ইরিত্রিয়ায় নির্বিচারে আটক থাকা আনুমানিক ১০ হাজার ব্যক্তিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। তাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
পূর্ব আফ্রিকার দেশটি ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির কঠোরভাবে শাসন করছেন এবং মানবাধিকার সূচকের প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেশটির অবস্থান তলানির দিকে রয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র সাইফ মাগাঙ্গো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রায় ১৮ বছর নির্বিচারে আটক থাকার পর সম্প্রতি ১৩ জন ইরিত্রিয়ানকে মুক্তি দেওয়া একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা। আমরা কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা দেশে নির্বিচারে আটক সব ব্যক্তিকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়, যার মধ্যে রয়েছেন জি১১-এর সাবেক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা, যারা ২০০১ সালে শাসন সংস্কারের আহ্বান জানানোর পর আটক হন।’
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কনসার্ন-ইরিত্রিয়া চলতি মাসের শুরুতে ১৩ জনের মুক্তির ঘটনাকে স্বাগত জানায়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন সাবেক অলিম্পিয়ান ও কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। তারা কোনো অভিযোগ, বিচার বা আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই কারাগারে বন্দি ছিলেন।
সংস্থাটি জানায়, রাজধানী আসমারা’র কাছে মাই সেরওয়া কারাগারে আটক থাকার সময় তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ধাতব কনটেইনারে বন্দি করে রাখা হয়, যেখানে তাপমাত্রা কখনও চরম গরম আবার কখনও তীব্র শীতে পরিবর্তিত হতো। প্রায় ৩৫ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ভিন্নমতাবলম্বীরা কারাগারে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করা হয়।
মাগাঙ্গো বলেন, ‘ইরিত্রিয়ায় নির্বিচারে আটক মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজারের বেশি, যাদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ধর্মযাজক ও শিক্ষার্থীরা।’ ইরিত্রিয়া যেন তার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দায়বদ্ধতা পুরোপুরি মেনে চলে, সেজন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আমাদের দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড