ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সিলেট গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকছে। এতে সিলেট নগরীর বাসা-বাড়ি, অফিস, স্কুল ও কলেজে হাটু পানি অবস্থা।
  • | ০৫ জুন, ২০২৪
সিলেট ওসমানী হাসপাতালে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে

সিলেট গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকছে। এতে সিলেট নগরীর বাসা-বাড়ি, অফিস, স্কুল ও কলেজে হাটু পানি অবস্থা। গত সোমবার থেকে সিলেটের একমাত্র সরকারি সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভারী বর্ষণের বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে করে হাসপাতালে হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।


সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ওসমানীর ফটক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবন, কলেজ ফটক, ছাত্রীনিবাস ও ছাত্রাবাসেও পানি উঠেছে। ফলে সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


সূত্র জানায়, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের নিচ তলায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে বিপুল অর্থের সম্পদ নষ্ট হয়েছে। হাসপাতালের ওষুধপত্র, ব্যবহার সামগ্রী, রোগীদের আসবাবপত্র, খাট, আলমিরাসহ আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি নষ্ট হয়েছে। নষ্ট হয়েছে লিফটের কেবল নেটওয়ার্কসহ সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ লাইন।


সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬ ও ২৭ নং নিউরোসার্জারী, অর্থোপেডিক্স ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল ওয়ার্ড। এ দুটি ওয়ার্ডে নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রায় ১৪০ জন, অর্থোপেডিক্সের প্রায় ৪০ জন ও ম্যাক্সিলোফেসিয়ালের (দন্ত বিভাগের) ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে অনেকেই মেঝেতে শয্যাশায়ী। তাদেরকে বাধ্য হয়ে অন্য রোগীর বিছানায় অবস্থান নিতে হয়।


এছাড়া, হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লক, ৩০নং ওয়ার্ড, ফার্মেসি, ৩১নং ওয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অফিস, শেখ রাসেল স্ক্যান সেন্টার, এম.আর.আই, সিটিস্ক্যান সেন্টার, প্যাথলজি ও হেমাটোলজি বিভাগসহ নিচ তলার সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনেক কিছুই পানিতে নষ্ট হয় বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।


অপরদিকে, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের নিচ তলার অধ্যক্ষের কক্ষ, উপাধ্যক্ষের কক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কক্ষ, অডিটোরিয়াম, ল্যাব, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাটমি বিভাগসহ সংলগ্ন কক্ষে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন জিনিসপত্র। মেডিকেল কলেজের নিচ তলার সোনালী ব্যাংকেরও অনেক উপকরণ নষ্ট হয়।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রক্ষার চেষ্টা চালালেও তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।


সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের নিচ তলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকেছে। এতে চিকিৎসাসেবায় ব্যঘাত ঘটছে। এছাড়া সোমবার থেকে পরীক্ষা ও ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে।


ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, হাসপাতাল ও  মেডিকেল কলেজের নিচতলা পুরোটাতেই পানি ঢুকেছে। গত বছর বন্যার সময় পানি ঢুকে যায়। সংশ্লিষ্টদের বারবার জানানো হলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ায় বৃষ্টি হলে হাসপাতালটিতে পানি উঠে যায়।


মেডিকেল সূত্র বলছে, ওসমানী মেডিকেল কলেজের উত্তরপাশ ঘেঁষে প্রবাহিত ছড়ার আশেপাশে বিভিন্ন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে। এ কারণে ছড়া দিয়ে পানি প্রবাহ বাধা গ্রস্ত হয়। অনেক বাসিন্দা পানির প্রবাহ ওসমানী মেডিকেলের একমাত্র ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। ফলে ড্রেন উপচে বৃষ্টির পানি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রে প্রবেশ করে।