চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করলে কানাডা থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র- এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এ মন্তব্য এক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একই ধরনের হুমকিকে আরও জোরালো করলো।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা কানাডাকে এমন একটি প্রবেশদ্বারে পরিণত হতে দিতে পারি না, যেখান দিয়ে চীন তাদের সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢেলে দেবে।’ চলতি মাসের ১৬ জানুয়ারি বেইজিং সফরের সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উষ্ণতা ফেরার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দুই দেশ একটি ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব’ এবং একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, চীন আগামী ১ মার্চের মধ্যে কানাডা থেকে আমদানি করা ক্যানোলা তেলের ওপর শুল্ক বর্তমান ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া চীন কানাডীয় নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশের অনুমতি দেবে। এর বিনিময়ে কানাডা নতুন ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্কহারে ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক যান (ইভি) আমদানি করবে।
এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন তার উত্তর প্রতিবেশীর ওপর বিভিন্ন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে।
শনিবার ট্রাম্প কানাডীয় আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই তা বাস্তবায়ন করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, ‘তারা যদি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যায়, তাহলে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তারা যদি আরও এগোয়, যদি আমরা দেখি যে কানাডীয়রা চীনকে পণ্য ডাম্পিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে, তাহলে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে।’
রোববার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘চীন সফলভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে একসময়ের মহান দেশ কানাডাকে দখলে নিচ্ছে। এটা দেখে খুবই দুঃখ লাগে। শুধু আশা করি, তারা আইস হকিকে একা ছেড়ে দেবে!’—কানাডার জাতীয় খেলাধুলার প্রতি ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করে তিনি যোগ করেন।
সূত্র: এএফপি
এসজেড