বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজার পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে ।
এ ছাড়া রায়ে আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে জরিমানার টাকা আদায় পূর্বক ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিমকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও কারাগার পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও এজাহারকারী ভিকটিম পূর্ব পরিচিত। ঘটনার ১১ মাস আগে এজাহারকারী ভিকটিমের স্বামীর মৃত্যু হয়। পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে আসামি ভিকটিমের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। একপর্যায়ে আসামির সঙ্গে ভিকটিমের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুরের এক বাসায় ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এরপর ভিকটিম আশপাশের লোকজনদের ধর্ষণের ঘটনা জানাতে চাইলে আসামি তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন। আসামি বিভিন্ন সময় ভিকটিমের বাসায় এসে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করতে থাকেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি ভিকটিমের বাসায় এসে তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আবারও ধর্ষণ করেন। এরফলে ভিকটিম দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে আসামিকে বিষয়টি জানালে আসামি টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। ওই ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভিকটিম প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকলিমা আক্তার।
মামলার তদন্তে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের ফলে ভিকটিমের নবজাতক ছেলে সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের গর্ভজাত নবজাতক সন্তান বলে প্রমাণিত হয়েছে।
বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হেফাজতে (Coustdy) নেবেন। ওই সম্পত্তি থেকে ভিকটিমের ছেলের ভরণ পোষনের ব্যবস্থা করবেন। ভিকটিমের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণ-পোষণ দেওয়া হবে। তবে আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র তার ভরণ-পোষণ ব্যয় বহন করবে। মামলার বিচারকালে ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
thebgbd.com/BYB