আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ‘ক্যাম্প ওমিদ’ মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের নিয়ে কাজ শেষ করছিলেন আজমত আলী মোমান্দ। ঠিক তখনই ঘটে বিস্ফোরণ। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। তারা গুরুতর আহত ছিল। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেকেই মারা গেছে। তবে কতজন, তা আমরা জানি না।’ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
৩০ বছর বয়সী এই চিকিৎসক দুই বছর ধরে কেন্দ্রে কাজ করছেন, মঙ্গলবার এএফপিকে বলেন, ‘ঘরটা আমার ওপর ভেঙে পড়ে। এতে আমার মাথায় দুইটি সেলাই লেগেছে এবং আমি পায়েও আঘাত পেয়েছি।’ বিস্ফোরণে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মোমান্দ। জ্ঞান ফেরার পর তিনি জরুরি বিভাগে যান, হামলায় আহতরা সেখানে ভিড় করছিল।
ঘটনাস্থলে ভবনটি কালচে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, সেখানে দিনের আলোয় ধোঁয়া উড়ছিল। সোমবার রাতে হামলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে এএফপির একটি দল অন্তত ৩০টি লাশ ও বিপুল সংখ্যক আহতকে সরিয়ে নিতে দেখেছে। আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। নিহতের সংখ্যা কয়েকশ হতে পারে বলে তারা ইঙ্গিত দেয়। তবে সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।
পাকিস্তান বলছে, তারা তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামোতে’ নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় হামলা চালানো চরমপন্থীদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে তালেবান।
স্ট্রেচারের অভাবে উদ্ধার কর্মীরা কম্বল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের সরিয়ে নেন। আহতদের হাসপাতালে নিতে রাতভর ডজনখানেক অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়া করে। মঙ্গলবারও ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবিতদের খোঁজ করা অব্যাহত রয়েছে। দিনের আলোয় ক্ষয়ক্ষতির চিত্রে ধসে পড়া ছাদ, ভাঙা চেয়ার, হাসপাতালের বিছানার অংশ, ছড়িয়ে থাকা কম্বল ও মানুষের শরীরের খন্ডাংশ দেখা যায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শেখ আবদুল রহমান মুনির বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সব মানুষকে এখনও বের করা সম্ভব হয়নি।’ ঘটনাস্থলে এক কোণে দাঁড়িয়ে নার্সরা এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোমান্দ বলেন, কেন্দ্রে ২ হাজার শয্যা ছিল। এখানে গাঁজা, অ্যামফেটামিন বা অন্যান্য সিনথেটিক মাদকে আসক্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। তিনি বলেন, ‘রোগীরা প্রতিটি ভবনে ২০০ থেকে ৩০০ জন করে আলাদা আলাদা ভবনে ছিল।’ ভয়াবহ এই হামলায় পাঁচটি ভবনের মধ্যে চারটিই ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড