সাত দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের রুট চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চ গোপালগঞ্জ হয়ে বাগেরহাট, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ পেরিয়ে কুষ্টিয়ায় যাবে। তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা করবে না জোটটি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের রুট ও পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়। পূজার কারণে আগে ঘোষিত ১০ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবরের ঢাকা-সিলেট লংমার্চের কর্মসূচি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ হবে ৩১ অক্টোবর। ঢাকা-সিলেট লংমার্চের নতুন তারিখ নভেম্বরে নির্ধারণ করা হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৮টায় গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে। পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মাদারীপুরের টেকেরহাট হয়ে গাড়িবহর গোপালগঞ্জে প্রবেশ করবে।
গোপালগঞ্জ শহর অতিক্রম করে গাড়িবহর যাবে বাগেরহাটের ফকিরহাটে। সেখানে কাটাখালী মোড়ে পথসভা হবে। এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও আরেকটি পথসভা হবে।
পরে লংমার্চের গাড়িবহর যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভা করে ঝিনাইদহের উদ্দেশে যাবে। ঝিনাইদহ জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা শেষে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে। সেখানে জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। পুরো রুটটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
১১ দলের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি।
গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজন নিহত হন। এ কারণে এবার গোপালগঞ্জে পথসভা না রাখার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চের মতো দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ হবে। গোপালগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ১১ দলের নেতাকর্মীরা কোনো উসকানিতে পা দেবেন না বলেও জানান তিনি।
thebgbd.com/BYB