রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব সহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে প্রত্যন্ত পল্লী উপজেলার মিঠিপুর ইউ’পির পানবাজার ডিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় তারা বক্তৃতা করেন।
এ সময় ডাকসু'র ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, রংপুরের মানুষরা সঠিক নেতৃত্ব না পাওয়ায় বিগত ৫৫ বছর ধরে সব সময় বঞ্চিত হয়েছে। সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন সবাই ব্যর্থ হচ্ছিল, যখন সবাই হতাশ হয়ে পড়ছিল, সেই হতাশার বিরুদ্ধে, সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই রংপুর থেকেই গণজোয়ার শুরু হয়েছিল।
Play
‘পীরগঞ্জের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ, শহীদদের ইমাম জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ আবু সাঈদ, দুই হাতকে প্রসারিত করে, সে যেভাবে বলেছিল, বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। সেই আবু সাঈদের শাহাদাতের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরি হয়েছিল। আবু সাঈদের শাহাদাত, শাহাদাত পরবর্তী বাংলাদেশে যে বিপ্লব তৈরি হয়েছিল, তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে খুনী হাসিনা এদেশ থেকে পালিয়েছে, আজকে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আজকে যে আজাদী, সেই আজাদির পেছনে আপনাদের অনেক অবদান রয়েছে। আপনাদের সন্তান আবু সাঈদের অনেক অবদান, আজকে সারা বাংলাদেশ, সারা বিশ্ব আপনাদের কথা স্মরণ করে, আবু সাঈদকে নিয়ে গবেষণা হয়, আবু সাঈদের সাহসিকতা তার দেশপ্রেম অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সেটা আজকে সবাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে, আমাদের আবু সাঈদের মতো মানুষ দরকার, আবু সাঈদ যে চেতনা লালন করতো, যে আকিদা লালন করত, আবু সাঈদের মতো নেতৃত্বকে যদি আমরা বাছাই করে নিতে পারি তাহলে এই সমাজের মধ্যে কোনো বঞ্চনা থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না, আবু সাঈদের উত্তরসূরী হচ্ছে পীরগঞ্জের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা নুরুল আমিন।’
তিনি বলেন, আমরা আর প্রতারিত হতে চাই না, ৫৫ বছর আমরা অনেক প্রতারিত হয়েছি, এই উত্তরবঙ্গে অবারিত সম্ভাবনা, পীরগঞ্জে অনেক সম্ভাবনা, আমিরে জামায়াত মানবিক মানুষ ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলকে কৃষি বিপ্লবের রাজধানী ঘোষণা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি উত্তরবঙ্গে যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সম্ভাবনাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, উত্তরবঙ্গের যে আয়, সেই আয় দিয়ে পুরো বাংলাদেশ পরিচালনা করা সম্ভব। সেই বাংলাদেশকে পরিচালনা করতে আমাদের সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজে দুই ধরনের নেতৃত্ব রয়েছে, এক ধরনের নেতৃত্ব হচ্ছে কথা আর কাজের সাথে মিল নেই, আরেক ধরনের নেতৃত্ব রয়েছে যারা কথার সাথে কাজের মিল রেখেছে। মানবিক নেতা ড. শফিকুর রহমান তিনি আপনাদের ছেড়ে চলে যায়নি, তিনি জনতার কাতারে ছিলেন, তিনি জেল জুলুম সহ্য করেছেন, তারা বাংলাদেশের মানুষকে ছেড়ে চলে যায়নি, খুনি হাসিনা যখন আমাদের নেতৃবৃন্দকে অন্যায় ভাবে বিচারিক হত্যাকাণ্ডেরমাধ্যমে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছিল, তখনো তারা দেশ ছেড়ে যায়নি, তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা এ দেশের জনগণের কাতারে ছিল।
তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি একজন নেতা তিনি নিজেকে অনেক বড় হিসেবে দাবি করে, কিন্তু তিনি আপনাদের সাথে ছিল না, যখন দেশে সংকটকালীন মুহূর্ত ছিল, তখন তিনি মুচলেকা দিয়ে দেশের জনগণকে ফেলে রেখে পালিয়ে ছিল। জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর শহীদদের আত্মত্যাগের পর নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার পরও দেড় বছর সে দেশে আসেনি, এরপর পার্শ্ববর্তী দেশে মুচলেকা দিয়ে সে আবার এসেছে, সুতরাং নেতা চিন্তে ভুল করলে আমাদেরকে আবার ফ্যাসিবাদের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর ৫টি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্ররা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সারা বাংলাদেশে ৪ কোটি তরুণ ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সুতরাং তরুণরা যে পথে গিয়েছে, আগামীর বাংলাদেশ সে পথেই যাবে ইনশাল্লাহ। ডাকসু'তে যে ফলাফল হয়েছে, সর্বশেষ জোকসুতে যে ফলাফল হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সে ফলাফল ইনশাআল্লাহ। আমরা ৪ মাস পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করেছি, আমরা যা যা কাজ করেছি তার তালিকা প্রকাশ করেছি, দেশবাসীর কাছে দিয়েছি, আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করতে চাই, আমরা বিশ্বাস করি আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে তারাও এভাবেই প্রতিনিয়ত তাদের নাগরিকদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। গত ৪ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট দূরীকরণে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ছেলে ও মেয়েদের জন্য ৫টি ৫টি করে ১০টি হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২ বছর পর ডাকসুতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট থাকবে না।
ভিপি বলেন, নেতৃত্ব যদি যোগ্য হয়, নেতৃত্বের যদি সঠিক পরিকল্পনা থাকে, তাহলে প্রতিটি সমস্যার সমাধান সম্ভব তার উদাহরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে গত ৫৫ বছর ধরে যে মাফিয়া তন্ত্র তৈরি হয়েছে, যে দুর্নীতি তৈরি হয়েছে, জুলুমতন্ত্র তৈরি হয়েছে, প্রেসক্রিপশন দিয়ে রাজনীতি তৈরি হয়েছে, এটা ভেঙ্গে দিতে ডা. শফিকুর রহমানকে রংপুরে ৬টি আসন উপহার দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি যুবকরা যদি দায়িত্ব নেয়, তাহলেই এটা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে আমার মা-বোনরা নিরাপদ থাকবে, আমরা দেখতে পাচ্ছি গত দুই সপ্তাহ ধরে ওই দল পাগল হয়ে গিয়েছে, আমার মা বোনদের উপর হামলা করছে, হুমকি দিচ্ছে, সাবধান করছি যদি আর কোন মা-বোনদের ওপর ওই কুলাঙ্গার হামলা করে, আমরা আর ছাড় দিব না। আমিরে জামাত বলেছেন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে আমাদের মা-বোনরা মেডিকেল সেন্টার, মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসা পাবে। জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার যে বেহাল দশা, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারতের প্রেসক্রিপশনের শিক্ষা ব্যবস্থা, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন দরকার, সে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। যারা বেকার রয়েছে, যারা যুবক রয়েছে, আমিরে জামায়াতের ঘোষণা অনুযায়ী ৫০ লাখ যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, বোনদের জন্য নারীদের জন্য মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। আমিরে জামায়াত দলের বিজয় চান না, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। যে মানুষটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান।
thebgbd.com/NIT